পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ব্যস্ত এই পৃথিবীর যান্ত্রিকতায় আমরা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন আমাদের আত্মার জন্য একটু প্রশান্তির প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রশান্তির সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো 'নামাজ'। নামাজ কেবল একটি শারীরিক কসরত বা নিয়ম নয়, বরং এটি হলো সরাসরি সৃষ্টিকর্তার সাথে কথোপকথন।
ধাপে ধাপে জেনে নেই পবিত্র এই ইবাদতের বিস্তারিত নিয়মাবলি।
- নিয়ত করা
- তাকবীরে তাহরিমা
- সানা পড়া (প্রথম রাকাতে)
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
- কিরাত (সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা)
আউযুবিল্লাহ (তাআউউয):
এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য পড়া হয়।
উচ্চারণ: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
বিসমিল্লাহ (তাসমিয়া):
যেকোনো ভালো কাজ বা সূরা শুরু করার আগে এটি পড়তে হয়।
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম।
অর্থ: পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সুরা ফাতিহা (নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ) :
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর-রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন। ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম। সিরাতাল্লাযিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন। (আমিন)
সুরা ফাতিহা শেষ হলে মনে মনে ‘আমীন’ বলুন। এরপর অন্য যেকোনো একটি সুরা বা অন্তত ৩টি ছোট আয়াত পড়ুন।
সূরা ফাতেহার পর যে সূরা গুলো পড়বেন নিচে দেওয়া আছে,
- রুকু
সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ (অর্থ: আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)।
- কওমা (রুকু থেকে খাড়া হওয়া)
রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ান। ওঠার সময় বলুন
সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলুন—
‘রব্বানা লাকাল হামদ’।
- সিজদাহ
সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ (অর্থ: আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)।
- জলসা (দুই সিজদার মাঝে বসা)
- দ্বিতীয় রাকাত
- তাশাহহুদ (আত্তাহিয়াতু)
আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’
(বি.দ্র: ‘লা ইলাহা’ বলার সময় শাহাদাত আঙুল উঠাতে হয় এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় নামিয়ে ফেলতে হয়)।
- দরুদ শরীফ (শেষ রাকাতে)
‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।’
- দোয়া মাসুরা
আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাওঁ ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনি, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।’
- সালাম
প্রথমে ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে বলুন— ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। এরপর বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে বলুন— ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। নামাজ শেষ।
৩ বা ৪ রাকাত নামাজের পার্থক্য
- ফরজ নামাজে: ৩য় এবং ৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলাতে হয় না (শুধু সুরা ফাতিহা পড়তে হয়)। কিন্তু ২য় রাকাতে বসে শুধু ‘আত্তাহিয়াতু’ পড়ে ৩য় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
- সুন্নত ও নফল নামাজে: ৩য় এবং ৪র্থ—প্রতিটি রাকাতেই সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলাতে হবে।
বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম (৩ রাকাত)
- প্রথম দুই রাকাত সাধারণ নামাজের মতোই পড়ুন।
- দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়াতু পড়ে ৩য় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়ান।
- ৩য় রাকাতে সুরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সুরা পড়ুন।
- সুরা শেষ করে রুকুতে না গিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে পুনরায় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত বাঁধুন।
হাত বেঁধে ‘দোয়া কুনুত’ পড়ুন:
আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খয়র, ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া লাকা নুসল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস’আ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আজাবাকা ইন্না আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক্ব।’
- দোয়া কুনুত শেষ করে রুকু ও সিজদা করে আত্তাহিয়াতু, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরান।
কিছু জিনিস জেনে রাখা ভালো,
- ফরজ: যা বাদ দিলে নামাজ হবে না (যেমন: কিরাত পড়া, রুকু, সিজদা)।
- ওয়াজিব: যা ভুলবশত বাদ গেলে ‘সাহু সিজদা’ দিতে হয় (যেমন: বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়া)।
- সুন্নত: যা করলে অনেক সওয়াব, না করলে গুনাহ হবে না তবে নবীজির অবাধ্যতা হয়।

