ওজুর জন্য সবার আগে মনে মনে নিয়ত করতে হয় যে, আমি পবিত্রতা অর্জনের জন্য ওজু করছি। এরপর পবিত্রতা অর্জনের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা জরুরি।
- শুরু করার দোয়া: > উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
(রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ওজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেয় না, তার ওজু (পূর্ণাঙ্গ) হয় না।" - সুনানে ইবনে মাজাহ)
- ওযু করার নিয়ম:
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদাহর ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ওজুর ৪টি প্রধান ফরয নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
- হাত ধোয়া: দুই হাতের কবজি পর্যন্ত তিনবার ভালো করে ধুতে হবে। আঙুলের ফাঁকগুলো খিলাল করবেন।
- কুলি করা: তিনবার ভালো করে কুলি করবেন। সম্ভব হলে মেসওয়াক বা আঙুল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করবেন।
- নাকে পানি দেওয়া: তিনবার ডান হাত দিয়ে নাকে পানি দেবেন এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করবেন।
- মুখমণ্ডল ধোয়া (কুরআনের ফরয): কপালে চুলের গোড়া থেকে চিবুকের নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কান পর্যন্ত পুরো মুখ তিনবার ধুতে হবে।
- হাত ধোয়া (কুরআনের ফরয): প্রথমে ডান হাত কনুইসহ তিনবার ধোবেন, এরপর বাম হাত কনুইসহ তিনবার ধোবেন।
- মাথা ও কান মাসেহ (কুরআনের ফরয): একবার দুই হাত ভিজিয়ে পুরো মাথা মাসেহ করবেন। একই সাথে তর্জনী আঙুল দিয়ে কানের ভেতর এবং বুড়ো আঙুল দিয়ে কানের পিঠ মাসেহ করবেন।
- পা ধোয়া (কুরআনের ফরয): প্রথমে ডান পা টাখনুসহ (গিরা) তিনবার এবং পরে বাম পা টাখনুসহ তিনবার ধোবেন।
ওযু শেষে যে দোয়া পড়বেন।
ওজু শেষ করার পর কালেমা শাহাদাত পড়া অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ।
ওজু শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে এটি পড়লে জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হয়।
উচ্চারণ: আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
ওজু শেষ করার পর প্রথমে কালিমা শাহাদাত পড়তে হয় এবং তারপরেই এই দোয়াটি পড়তে হয়।
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ-আলনী মিনাত তাউয়্যাবিনা ওয়াজ-আলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।"
উৎস: এটি একটি হাদিস বর্ণিত দোয়া। সুনান তিরমিজি (হাদিস নং ৫৫)-এ দোয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: ওজু শেষে কালিমা শাহাদাত পড়ার পর এই দোয়াটি পড়লে জান্নাতের আটটি দরজার যেকোনোটি দিয়ে প্রবেশের সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি)।
ওজু সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সেই আয়াত
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো..." (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬)
ওযুর কিছু জরুরি সুন্নাত
ফরযের পাশাপাশি এই কাজগুলো করলে ওযুর সওয়াব বেড়ে যায়
- ওযুর শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা।
- হাতের এবং পায়ের আঙুলগুলো খিলাল করা।
- প্রতিটি অঙ্গ ৩ বার করে ধোয়া (মাথা মাসেহ ছাড়া)।
- ওযুর সিরিয়াল বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
ওযুর মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ
- পানির অপচয় করা (প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার)।
- মুখমণ্ডলে জোরে পানি ছিটানো।
- ওযুর সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা।
- বাম হাতে কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়া।
যারা অসুস্থ বা পানি ব্যবহারে অক্ষম (তায়াম্মুম)
যদি কোনো কারণে পানি পাওয়া না যায় বা পানি ব্যবহারে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে 'তায়াম্মুম' করার বিধান আছে।

