![]() |
| বগুড়া ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া তারেক রহমানের ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রকল্প |
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট একটি বিলাসিতা নয় বরং মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। এই ভাবনা থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে "ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই" প্রকল্প। কেন এই উদ্যোগ, কোথায় কোথায় এটি পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যাপ্তি কতটা—তা নিয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা করবো।
প্রজেক্টটি কী এবং কেন করা হচ্ছে?
তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই প্রজেক্টটি মূলত বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী এবং ফ্রিল্যান্সারদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।
- ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা: যাদের উচ্চমূল্যে ডাটা কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তরুণরা যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারে।
- শিক্ষায় সহায়তা: শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ও তথ্য খোঁজার কাজে গতি আনা।
কোথায় কোথায় চালু হয়েছে? (বর্তমান অবস্থা)
এটি এখনো সারা বাংলাদেশে ঢালাওভাবে চালু হয়নি। বর্তমানে এটি একটি পাইলট প্রজেক্ট (Pilot Project) হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু জেলায় সফলভাবে শুরু হয়েছে।
- বগুড়া: বগুড়া শহরে সবচেয়ে বড় পরিসরে এটি চালু হয়েছে। এখানে প্রায় ২০টি ডিজিটাল পিলার স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি আজিজুল হক কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় এটি সক্রিয়।
- চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যস্ততম মোড়গুলোতে প্রায় ৫০টি ওয়াই-ফাই জোন তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য এলাকা: পর্যায়ক্রমে বরিশাল, খুলনা ও ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট জোনে এই সেবা চালুর প্রাথমিক কাজ চলছে।
নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ও ব্যবহার বিধি
- টোটাল কতটি স্পট: এখন পর্যন্ত (বগুড়া ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে) প্রায় ৭০-৮০টির মতো হটস্পট সক্রিয় বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- ব্যবহারের নিয়ম: যে কেউ কানেক্ট হয়ে একটানা ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সময় শেষ হলে পুনরায় লগ-ইন করে ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সারা বাংলাদেশ কি পাবে?
তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি শুধুমাত্র কয়েকটি শহরের জন্য নয়। তার ভবিষ্যৎ ভিশন হলো:
- ৩১ দফার অংশ: বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার অন্যতম পয়েন্ট হলো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি এবং পাবলিক প্লেসকে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনা হবে।
- ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা: ভবিষ্যতে ইন্টারনেটকে পানি বা বিদ্যুতের মতো সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃতি: প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার ও ফ্রি ইন্টারনেট জোন করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ তরুণ ভোটার এবং প্রযুক্তিপ্রেমী প্রজন্মের কাছে তাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। অবকাঠামো হিসেবে "ডিজিটাল পিলার" স্থাপন একটি আধুনিক চিন্তা, যা দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তারেক রহমানের এই ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রজেক্টটি বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে থাকলেও এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশ সুদূরপ্রসারী। সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।
